রাকিবুল ইসলাম রাকিব: বগুড়া র‌্যাব-১২ এর মাদকবিরোধী অভিযানে বগুড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ৭৮ পিস ইয়াবা-সহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।

গত ২২ মার্চ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার বগুড়া সদরের পুরান বগুড়ার (ফকির পাড়া), পূর্বের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেদী ছাত্রাবাস এর সামনে রাস্তার উপর থেকে র‌্যাব এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পুরান বগুড়ার আব্দুল ওহাব ফকিরের বড় ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬) কে ৭৮ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ হাজার টাকা সহ গ্রেফতার করে র‌্যাব।

স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার ও তার স্ত্রী মোছাঃ মনি বেগম (৪২) দীর্ঘ প্রায় ২ যুগেরও বেশী সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ ও ক্রয় বিক্রয় করে আসছে।

আরো জানা গেছে, দেশে যখন ইয়াবার প্রচলন কম ছিলো তখন মাদক সম্রাট আনোয়ার ও তার স্ত্রী মনি ফেনসিডিলের রমরমা ব্যবসা করতেন। দেশে ইয়াবার প্রচলন ব্যাপক আকার ধারন করলে তারাও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে ফেলে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ে জোড় দেন।

মাদকের উপর সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, আনোয়ার ও মনির নামে একাধিক মামলা থাকায় তারা ২০১৯ সালের প্রথম দিকে আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘ দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর ২০২০ সালের শেষ দিকে আবারো নিজ এলাকায় ফিরে এসে শুরু করে মাদকের রমরমা ব্যবসা। আনোয়ার ও মনি ২ বছর আত্মগোপন করে থাকলেও বন্ধ হয়নি তাদের ব্যবসা। সেই সময়টিতে আনোয়ার অভিনব কায়দায় তার বড় ছেলে আসিক(২০)কে দিয়ে চালাতো মাদকের ব্যবসা, আসিক ভদ্র লেবাসে এলাকার বিভিন্ন মেসের ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিতো ইয়াবার পার্সেল। আসিক একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র হওয়ার কারনে কখনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেনি। কিন্তু ২০২০ এর শুরুর দিকে বগুড়া সদর থানার পুলিশ পুরান বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে ৪পিছ ইয়াবা সহ একজন ইয়াবা সেবনকারীকে ধরতে সক্ষম হলেও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায় বিক্রেতা আসিক। দীর্ঘদিন আত্নগোপনে থেকে একটি দফারফার মাধ্যমে আবারো নিজ এলাকায় ফিরে আসে আনোয়ারের ছেলে আসিক।

তার পর থেকেই ভালো হয়ে যাওয়ার নাটক সাজিয়ে কৌশল পরিবর্তন করে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো আনোয়ার, মনি ও তার বড় ছেলে আসিক। গ্রেফতারকৃত মাদক সম্রাট আনোয়ার ও আত্মগোপন করা তার স্ত্রী মনির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ডজন খানেক মামলা, জানা গেছে তারা সবকটি মামলাতে রয়েছে জামিনে।

র‌্যাব জানান,গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারের গতিবিধির উপর বেশ কয়েকদিন ধরেই রাখা হয়েছিলো কঠোর নজরদারি। আনোয়ারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তাকে বগুড়া সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।