স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালুসহ ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে।

শুক্রবার ১৪মে সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যৌথ কমিটির সভাপতি শামসুদ্দিন শেখ হেলালের সভাপতিত্বে ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে-
১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে মােট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সব গণপরিবহন এবং স্বাভাবিক পণ্যবাহী পরিবহন চলাচলের সুযােগ দিতে হবে।
২. লকডাউনের কারণে কর্মহীন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের ঈদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মালিকদের যানবাহন মেরামত, কর্মচারী ও শ্রমিকের বেতন, ভাতা ও ঈদ বােনাস ইত্যাদি দেওয়ার জন্য নামমাত্র সুদ ও সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে হবে।
৩. সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলােয় পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আসন্ন ঈদের পূর্বে ও পরে ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা।
৪. কোভিড-১৯ এর কারণে গণপরিবহন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়ােগের বিপরীতে সব ব্যাংক ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মওকুফসহ কিস্তি চল‌তি বছ‌রের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা। পাশাপাশি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে শ্রে‌ণিকৃত ঋণগুলাে নিয়‌মিত করার সুযোগ দি‌তে হবে।
৫. লকডাউনে বন্ধ থাকার সময় গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিট ফি, আয় করসহ সব ধরনের ফি, কর ও জরিমানা মওকুফ করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত কাগজপত্র হালনাগাদের সুযােগ দিতে হবে।

দাবিগুলোর প্রস্তাব করার পাশাপাশি বক্তব্যর সময় সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির নেতারা বলেন, সবকিছু চালু রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখায় ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অর্ধাহারে অনাহারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে লকডাউন শিথিল করায় গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচাবাজার, অফিস আদালত খুলে দেওয়া হয়েছে। কেবল গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে কেন। করোনায় মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। আমরা লকডাউনের বিরোধিতা করছি না। কথা ছিল, লকডাউনে মানুষের চলাচল, শ্রমঘন শিল্প, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্ট সব বন্ধ থাকবে। কিন্তু সবই চলছে শুধু গণপরিবহন ছাড়া। বর্তমানে বিকল্প যানবাহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে। এতে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যানদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, আমিনুল ইসলাম, আকতারুজ্জামান ডিউক, তৌফিক হাসান ময়না, শফিকুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, বাবর আলী মোল্লা,আব্দুল মান্নান মন্ডল, খলিলুর রহমান, জাহিদুর রহমান ও আব্দুল হামিদ মিটুল।