গাজীপুরে ডাইংয়ের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

60

মাজহারুল ইসলাম রবিন,গাজীপুর-

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর মৌচাক এলাকায় উর্মি নিটিং নামে ডাইং প্রতিষ্ঠানটির ইটিপি প্লান্ট থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির আশেপাশের পরিবেশ চরম বির্পযয়ে। ডাইংয়ের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। প্রতিষ্টানটির পরিবেশ ছাড় প্রত্র হাল নাগাদ আছে বলেও জানাযায় গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতর সুত্রে।

কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রতিষ্ঠাটির অবস্থান থাকলেও যোগীরচালা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড মেঘলাল বিস্তৃর্ণ এলাকায় উর্মি ডাইংয়ের অপরিশোধিত পানিতে বছরের পর বছর অনাবাদি রয়েছে ফসলি জমি।

দীর্ঘ আট বছরেও এসমস্যা থেকে মুক্তি মিলেনি এলাকার কৃষকদের। শিল্প কারখানার পানি অনেকটা জোর পূর্বক কৃষি জমিতে আসছে বলেও জানান স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা আলমাস হোসেন,মোশারফ হোসেন,মজিবর রহমারসহ কৃষকেরা জানান,কালিয়াকৈর উপজেলার যোগীরচালা এলাকা হয়ে উর্মী ডাইংয়ের অপরিশোধিত পানি ড্রেনের মাধ্যমে উপজেলার সীমান্তবর্তী গাসিক নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের মেঘলাল ফসলি জমিতে পড়ছে। জমি গুলো নীচু হওয়ায় সারা বছরই জলাবদ্ধতা হয়ে থাকে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানিতে নামলেই শরীরে চুলকানিসহ চর্ম রোগ দেখা দেয়।

এছাড়াও ডাইনিংয়ের অপরিশোধিত পানির কারণে জমিতে কোন ফসল করা যায়না বলেও জানান কৃষক। বিষাক্ত পানির কারণে বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ পুড়ে গেছে। সরজমিনে দেখে মনে হয় আগুনে পুড়েছে জলজ এলাকা। কৃষকেরা আরো বলেন,এবিষয়ে উর্মী ডাইংয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা বলেও কোন সুফল হয়নি কৃষকদের।

এবিষয়ে উর্মী ডাইংয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে ইটিপি প্লান্ট সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

এদিকে ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, উর্মি ডাইংয়ের পানিতে আবাদি জমি নষ্ট হয়ে আবাদ বিলুপ্তি হয়ে গেছে জমি গুলোতে। মেঘলাল এলাকার কৃষি জমি পূনরায় আবাদ যোগ্য করতে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আশরাফ উদ্দিন দৈনিক আমার সময়কে মুটোফোনে জানান,উর্মী ডাইংয়ের পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। ইটিপি প্লান্ট থেকে কালারযুক্ত পানি বের হওয়ার বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। ইটিপি প্লান্ট থাকা সত্বেও তা ব্যবহার না করে অপরিশোধিত পানি আশে-পাশের কৃষি জমিতে ছাড়া উচিত নয়। উর্মি ডাইংয়ের পানিতে কৃষি জমি নষ্ট হলে এসকল প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ছাড় পত্র পায় কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইটিপি প্লান্ট থাকলে আমাদের আর কোন কিছু করণীয় থাকে না। সেক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড় পত্র পেয়ে থাকেন।