কোম্পানীগঞ্জে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত এক

71

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন (৩০)। তিনি চারকালী গ্রামের মইনুল হকের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর রাতে পৌর ভবনের সামনে সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেলমেট পরিহিত প্রতিপক্ষের ১০-১২ জন সেখানে এলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। মারা যান আলাউদ্দিন।

মেয়র কাদের মির্জার সমর্থকদের ভাষ্য, মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাতে গুলি ছোড়ে বাদল, রাহাতের সন্ত্রাসীরা। এতে মেয়রের অর্ধশতাধিক সমর্থক আহত হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বলেন, মেয়রের সন্ত্রাসীরা তাঁর সমর্থকদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে তাঁর সমর্থক আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ওসি জাহিদুল হক রনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহত হয় অন্তত ২০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার মির্জা কাদেরের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় রূপালী চত্বরে প্রতিবাদসভা চলছিল। সমাবেশের শেষ বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চের পেছনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। এক পর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়াধাওয়ি। স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা দোকানপাট ভাঙচুর করে পৌর ভবনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফলে দোকানপাট ও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মির্জা কাদেরের অনুসারীরা এই হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে মির্জার বিরোধীপক্ষ। এই ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসিসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচলও। পরে রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ব্যবসায়ীরা।

কাদের মির্জার ভাগ্নে খিজির হায়াত গ্রুপের অন্যতম নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত জানান, সংঘর্ষের সময় রাজিব নামের এক কর্মীর পায়ে গুলি লেগেছে। একজন বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন।

বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নিজাম বলেন, সন্ধ্যার আগে একদল সন্ত্রাসী বাজারের হাজী মার্কেটের ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করে। এ ছাড়া তারা বাজারে প্রতিটি দোকানের শাটার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও বোমা মেরে নষ্ট করে। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর আমরা বিক্ষোভ মিছিল বের করি। আমরা পরবর্তীতে কর্মসূচি দেব। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে বসুরহাটের পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, গতকাল (সোমবার) যারা মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চ ভাঙচুর করেছে, জনগণ আজ (মঙ্গলবার) তাদের প্রতিহত করেছে।

মির্জার বহিষ্কার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার প্রতিবাদে আবদুল কাদের মির্জাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাঁর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে নোয়াখালী জেলা ও সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে খিজির হায়াতের ওপর হামলার ঘটনায় কাদের মির্জাকে দায়ী করে অবিলম্বে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে কাদের মির্জাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধারাও। গতকাল মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক প্রতিবাদসভায় এই দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে কাদের মির্জা অনিয়ম, অপরাজনীতি, অস্ত্রবাজির বিরুদ্ধে এবং ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে কথা বলায় সব ষড়যন্ত্রকারী একজোট হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার বিরুদ্ধে এসব ঘটাচ্ছে। মেয়র আবদুল কাদের মির্জা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সকালে বসুরহাট পৌরসভার বটতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, আমি মুজিব শতবর্ষ পালনের জন্য মেলা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ করেছি। খিজির হায়াত, নুর নবী চৌধুরী, মিজানুর রহমান বাদল, রাহাত ও মঞ্জুর নেতৃত্বে গত সোমবার রাতে সেই মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পণ্ড করা হয়েছে মেলা। পুলিশসহ তারা সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে, অনুষ্ঠানের মাইক-সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর, অস্ত্র হাতে দোকান-অফিস ভাঙচুর ও লুট করেছে।

কাদের মির্জা বলেন, সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হলেও একজনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডকে কেউ কেউ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে।