1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
বগুড়ার শেরপুরে পানি চলাচলের কালভার্টের মুখ বন্ধ! কৃষকের মানবেতর জীবনযাপন - বিএসএল বার্তা




বগুড়ার শেরপুরে পানি চলাচলের কালভার্টের মুখ বন্ধ! কৃষকের মানবেতর জীবনযাপন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শেরপুরে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় হাজার-হাজার বিঘা আবাদী জমি পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে বহু কৃষক পরিবার। সমস্যার সমাধানে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দিয়েছে।

জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১০ নং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া বটতলা হয়ে ভবানীপুর সড়কটি ছিল গ্রামীন সড়ক। যে সড়কে এক-আধটু বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত থাকত পুরো রাস্তা। তখন গ্রামীন এ রাস্তার দু’পাশের কানাইকান্দর, দড়িমুকুন্দ, হাতিগাড়া ও বাঘমারা এ ৪টি গ্রামের ৯৫ ভাগ মানুষ তাদের কৃষি পণ্য বাড়ীতে বা বাজারে নিতে পড়ত মহা সংকটে। এভাবে চলতে থাকে এ চারগ্রামের কৃষি নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে এ এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তা। গ্রামীন এ ধুলোবালির সড়ক পরিণত হয় পিচ ঢালা পথে। ফসল কেটে বাড়ীতে বা বাজারে নিতে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় গ্রামবাসী।

কিন্তু, এ সুখ বেশী দিন স্থায়ী হয়নি এ চার গ্রামের বর্গা ও নিজ জমি চেষে খাওয়া কৃষকের ভাগ্যে। সেরুয়া বটতলা ভায়া ভবানীপুর সড়কটি পিচঢালা সড়ক হয়ে ওঠার পরপরই ওই রাস্তার দু’পাশের জমি ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে থাকে জমির মালিকগণ। এর ফলে, আবারো আরেক সমস্যার খড়গ নেমে আসে এ এলাকার ৪ গ্রামের ১ হাজার ৫০০ বিঘা আবাদী জমিতে চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করা কৃষকের উপর।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, রাস্তার দু’পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে নির্মানকৃত বা নির্মানাধীন জমির মালিকগণ পরিকল্পিতভাবে তাদের  প্রতিষ্ঠান নির্মাণ না করে বরং রাস্তার যে সকল স্থানে উক্ত চার গ্রামের আবাদী জমির বর্ষার অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার জন্য কালভার্ট নির্মান করা হয়েছিল সেকল কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে এসকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে দড়িমুকুন্দ (চারমাথা মোড়) হতে রাজবাড়ী রাস্তার উপড় যে কালভার্টগুলো ছিল তা বন্ধ করে দেওয়ায় দেড় হাজার  বিঘা জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক দবির উদ্দীন, আ: সামাদ, হবিবর, আবু তাহের, এরশাদ আ: খালেক, বিরেন্দ্র মাহাতো, শ্রী অজয়, সুধাংশু তাঁতী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, রাস্তার দু’পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে জমির মালিকগণ পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ না করায় আবাদী জমির বর্ষার অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় যেমন কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনিভাবে একটু বৃষ্টিপাত হলেই তারা পরিবার পরিজন নিয়ে হয়ে পড়ছে পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা কালভার্ট ও সেতুগুলোর বন্ধ মুখ খুলে দিতে গেলে প্রতিষ্ঠান মালিকদের সাথে বাক-বিতন্ডা থেকে শুরু করে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

এমতাবস্থায় কানাইকান্দর, দড়িমুকুন্দ, হাতিগাড়া ও বাঘমারা এ চার গ্রামের  লোকজন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে কালভার্টের মুখগুলো পুনরায় খুলে দিয়ে অনাবাদী জমিগুলো নতুন করে চাষাবাদ করে অসহায় কৃষকদের জীবিকা নির্বাহ করার ব্যবস্থা করতে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অতিদ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিএসএল বার্তা / ওয়াদুদ




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team