1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
খেঁজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা - বিএসএল বার্তা




খেঁজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ফজলে রাব্বী,নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতিতে চলে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা। সকালে কুয়াশার চাদর পরে চুপটি করে থাকে সূর্য মামা। কুয়াশার চাদর সরাতেই প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পরে মিষ্টি রোদের ছোঁয়া। তার আগে থেকে গ্রামের পুকুর গুলো থেকে উঠতে থাকে অবিরত সাদা ধোঁয়া। এ সময়টায় নাটোরের বিভিন্ন গ্রামের খেঁজুরের গাছ চেছে,রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাটোরের বিভিন্ন গ্রামের,বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,এলাকার গাছিরা ইতিমধ্যে খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করে গাছ নিয়েছেন। তারা এসব খেঁজুর গাছ কেটে রস আহরনের প্রস্তুত্তির কাজ শুরু করেছেন। যদিও আগের মত শত,শত খেঁজুর গাছের সারি আর দেখা যায় না। এরপরও যে গাছ গুলো আছে শীতের শুরুতে গাছিরা সেই গাছ গুলো প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন।

গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেধে খেঁজুর গাছে,উঠে নিপুন হাতে গাছের ছাল তোলা নলি,বোসানোর কাজে  ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন থেকে শুরু হবে রস সংগ্রহের প্রতিযোগীতা। অগ্রহায়ণ,পৌষ, মাঘ এই তিন মাস  খেঁজুর গাছ থেকে রস আহরন আর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে হয় গাছিদের। গাছ গুলো থেকে আহরনকৃত রস নিজ  বাড়িতে আগুনে জাল দিয়ে সে গুড় বা লালি তৈরী করে পরে তা বাজরে বিক্রয় করা হয়।

স্থানীয়রা বলেন অনভিজ্ঞ গাছিরা গাছ কাটার সময় ভুল করাই,অনেক গাছ মরেও যাচ্ছে। তাই এখন আর আগের মত খেঁজুর গাছ দেখা যায় না। ফলে  এক সময় খেঁজুর রসের যে সমারহ ছিল তা অধিকাংশ কমে গেছে। শীতের সকালে ছোট,বড় সকলেই রসের জন্য ভিড়  জমাতো।

কালের বির্বতনে এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা। শীতের সকালে গ্লাস ভরে খেঁজুরের রস পানই  লোভনীয়। পুরো শীত নামার সাথে সাথেই প্রতি ঘরে খেঁজুরের পিঠা, পুলি ও পায়েশ তৈরীর ধুম পড়বে। চিড়া, মুড়ি, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবার কাছে প্রিয়। শীত মৌসুম এলেই নাটোরের সর্বত্র শীত  উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়।

উল্লেখ্য, খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কোন ধরনের বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল না খাওয়া এবং আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
বাংলদেশে সাধারণত শীতকালে নিপাহ সংক্রমণ দেখা যায়। এই সময়ে খেজুরের রস পানে বিরত থাকুন। এই বিষয়ে দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের প্রতি আইইডিসিআর আহ্বান জানাচ্ছে দয়া করে খেজুরের রস সংক্রান্ত উৎসবসহ যে কোন আয়োজন থেকে বিরত থাকুন।

এতে বলা হয়, আমরা আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই যে নিপাহ একটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এখনও কোন চিকিৎসা নেই। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এই রোগে মৃত্যু হার শতকরা ৭০ ভাগ।

বাংলাদেশে শীত মৌসুমে খেজুরের কাঁচা রস পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও খেজুরের কাঁচা রস পান উৎসবও পালিত হচ্ছে। খেজুরের কাঁচা রস পানে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ, যা বাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এ রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ হচ্ছে জ্বরসহ মাথা ব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়াসহ কোন কোন ক্ষেত্রে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

বিএসএল  / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team