1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
বিজিএমইএ ভবন অপসারণ: অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রাজউক - বিএসএল বার্তা




বিজিএমইএ ভবন অপসারণ: অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রাজউক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কার্যাদেশের পর মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নেওয়ায় রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবনটি নির্ধারিত এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দরে ভাঙা হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজের দেওয়া নতুন দর এক কোটি ছয় লাখ টাকায় ভবনটি ভাঙা হতে পারে। এদিকে ভবনটি আগের দরে ভাঙা না হলে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

জানা যায়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য গত ১৭ এপ্রিল একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান করে রাজউক। তাতে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদেরকে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া কাজ শুরুর তিন মাসের মধ্যে ভবনটি অপসারণের শর্ত দেওয়া হয়।

দরপত্রে আংশ নিয়ে ভবনটি ভাঙার দায়িত্ব পায় মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানটি ভবনটি ভাঙার জন্য এক কোটি ৭০ লাখ টাকা দর দেয়। এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দর দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল চট্টগ্রামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ। পরে ভবনটি ভাঙার দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করে মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। এ অবস্থায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজউক।

এরই মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। তাতে তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পর গত ১২ এপ্রিল হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ ভবন উত্তরায় স্থানান্তর করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে বিজিএমইএ অফিস স্থানান্তর করা গেলেও অফিসের বেশকিছু আসবাবপত্র, ব্যবহৃত মালামাল, অনেক দলিলপত্র, লিফট, এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট, ইলেকট্রিক সাব স্টেশনসহ বিভিন্ন মালামাল নির্ধারিত সময়ে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।’ যা সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীর কাছে সময় ও সম্মতি চান।

এরপর গত ২১ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ পরবর্তী সপ্তাহে শুরু হবে জানিয়ে সে অনুযায়ী ভবনে থাকা মালামাল সরিয়ে নিতে শেষবারের মতো বিজিএমইএকে সময় দেয় রাজউক। তবে ওই এক সপ্তাহের মধ্যে মালামাল সরিয়ে নিতে না পারায় ফের আবেদন করে বিজিএমইএ। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পায় তারা। এর মধ্যে লিফট, এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট, ইলেকট্রিক সাব স্টেশনসহ মূল্যবান অনেক মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে ভবনটি থেকে বিজিএমইএ মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করলে এ প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেয় ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ। এতে বলা হয়, যে অবস্থায় ভবনটি দেখে তারা দরপত্র জমা দিয়েছিল, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ফলে তারা ভবনটি ভাঙলে দরপত্রে উল্লেখ করা অর্থ তুলে আনতে পারবে না। ভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরিয়ে নিয়ে বিজিএমইএ খোলাবাজারে বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজিএমইএ ভবন (ফাইল ছবি)রাজউককে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর তারা ভবনটি ফের পরিদর্শন করবে। এরপর তারা সন্তুষ্ট হলে আগের দরেই ভবনটি ভাঙতে শুরু করবে। অন্যথায় তারা নতুন দর দেবে। তাতে রাজউক রাজি না হলে তারা কাজটি ছেড়ে দেবে। এর পর বিষয়টি নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। আবার নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে হয় রাজউকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. নাছরুল্লাহ খান রাশেদ বলেন, ‘আমরা যে অবস্থা দেখে দরপত্র দিয়েছি সেই অবস্থা বর্তমানে নেই। কারণ বিজিএমইএ ভবন থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। আমরা যখন দরপত্র দিয়েছি তখন মালামালগুলো ওই ভবনে ছিল। যেগুলো আমরা বিক্রি করে আমরা ভালো অর্থ পেতাম। বর্তমানে ভবনে কিছু রড ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও জিনিসপত্র নেই। রড বিক্রি করে আমরাতো খরচের টাকাই তুলতে পারবো না। পরে বিষয়টি জানিয়ে আমরা রাজউককে চিঠি দিয়েছি। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের হিসাব মতে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ রাজউককে জানিয়েছে এর পরিমাণ ৮ লাখ টাকা। কার্যাদেশ দেওয়ার পর কীভাবে সেই ভবন থেকে মালামাল সরানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজউক এ বিষয়ে সঠিক কোনও জবাব দিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে রাজউক সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর দাতার দেওয়া দর থেকে ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা কমিয়ে এক কোটি ৬ লাখ টাকায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফাইলটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য রাজউকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে চেয়ারম্যান হয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় অর্ধকোটি টাকা কমে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এবং হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে একটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। সেই জটিলতা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহে ভবনটি ভাঙার জন্য কার্যাদেশ দিতে পারবো বলে আশা করছি। দেশীয় প্রযুক্তিতে ভবনটি ভাঙা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পত্রিকার প্রতিবেদনের পর হাইকোর্ট ‘ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে রায় দেন। এরপর আপিল ও রিভিউয়ে ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও দফায় দফায় সময় চায় বিজিএমইএ। গত বছরের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএকে এক বছরের সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয় এ বছরের ১২ এপ্রিল। সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

বিএসএল / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team