1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
সিরাজগঞ্জে পুনর্খনন হচ্ছে ১৩৫ কিমি নদী-খাল - বিএসএল বার্তা




সিরাজগঞ্জে পুনর্খনন হচ্ছে ১৩৫ কিমি নদী-খাল

টি.এম.কামাল; সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে
ফাইল ফটো

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য টেকসই বাসযোগ্য পরিবেশ ও জলাধার সৃষ্টির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের ছোট ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে। খাদ্যে আমিষের সরবরাহ বাড়াতে সারাবছর মাছ চাষ, কৃষিতে সেচ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রিচার্জ করার লক্ষ্য নিয়ে নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়াও নৌ যোগাযোগ সচল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও এ প্রকল্পের আরও একটি উদ্দেশ্য।

৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জে এক শ’ ৩৫ কিলোমিটার ছোট নদী ও খাল পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আরও ২৩০ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন কাজ করা হবে বলে পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। যমুনা নদী বেষ্টিত সিরাজগঞ্জ জেলায় অসংখ্য অভ্যন্তরীণ নদী রয়েছে। এ প্রজন্মের অনেকেই আছেন যারা অনেক নদীর নামও জানেন না। সোতি, দৈখাওয়া, বিলসূর্য্য, মরা করতোয়া, গোহালা, কাটাগাং, কাটাখালসহ অনেক নদীর নাম দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে। হুড়া সাগর, ইছামতি, করতোয়া, ফুলজোড়সহ অনেক নদী এখন শুকিয়ে আবাদী জমিতে পরিণত হয়েছে। খাল বিল জলাশয়ও ভরাট হয়ে গেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অভ্যন্তরীণ এসব নদীতে পানি থাকে না। এর ফলে কৃষিতে সেচ ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ছোট নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ উৎপাদনও কমে গেছে। খাদ্যে আমিষের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মাছ চাষীরা বিকল্প পন্থায় পুকুর খনন করে মাছ চাষের উদ্যোগ নিলেও পানির অভাবে তা ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক সমীক্ষায় জানা গেছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা ও মেঘনা-বাংলাদেশের প্রধান এই ৩টি অববাহিকার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা অন্যতম। বর্ষাকালে যমুনা নদীতে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ টন পলি বহন করে আনে এবং এর বার্ষিক পলি বহন ক্ষমতা প্রায় ৭৩৫ মিলিয়ন টন। এজন্য যমুনা নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে আছে। বর্ষা মৌসুমে এসব পলি বিক্ষিপ্তভাবে অভ্যন্তরীণ নদী খাল বিল জলাশয়ে পানির সঙ্গে প্রবাহিত হয়। ভরাট হয়ে উঠে এসব নদী খাল বিল জলাশয়। বর্ষাকালে যমুনা নদীর প্রবাহ থাকে বিশাল পরিমাণে এবং তা গড়ে প্রায় চার হাজার কিউসেক। এ সময় যমুনা বিধ্বংসী হয়ে ওঠায় ডানতীরবর্তী সিরাজগঞ্জ এলাকা ব্যাপকভাবে ভাঙ্গন কবলিত হয়।

ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কাটাখাল পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই কাটাখালের খনন কাজের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্পের আদলে এই কাটাখাল সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল সিরাজগঞ্জ পৌরসভা। কাটাখাল খনন করে এর চারপাশে নানা স্থাপনা নির্মাণসহ সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের টেন্ডার করে কাজও শুরু করা হয়েছিল। খনন কাজে চার কোটি টাকা খরচ করার পর মাঝপথে এ প্রকল্পের মাটি খনন কাজ থেমে যায়। এ কারণে শহরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। হাতিরঝিলের স্বপ্ন, আঁতুর ঘরেই অপমৃত্যু হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। পরে এ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খনন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে ২২ কিমি কাটাখাল খনন কাজ শুরু করা হয়।

যমুনা নদীর উৎসমুখ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বা ঐতারা থেকে শহরের মিরপুর, বাজার স্টেশন রেলওয়ে কলোনি হয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজর পাশ দিয়ে জানপুর বাহিরগোলা এবং চন্দ্রকোণা হয়ে তা কালিঞ্জার ভেতর দিয়ে ইছামতি নদী পর্যন্ত ২২ কিমি খাল খননে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। কাজের শতকরা ১৫ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে এবং টলতি অর্থবছরের জুন নাগাদ তা শেষ হবে বলে পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বিএসএল / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team