1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালন - বিএসএল বার্তা




সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালন

টি.এম.কামাল; সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে ৩ ডিসেম্বর ভোর ৬ টায় কাজিপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযোদ্ধা বেদিতে মাল্যদান শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরনে একমিনিট নিরবতা পালন ও পরে মুক্তিযোদ্ধা ভবন প্রেসক্লাব ও কাজিপুর গ্রন্থাগারে কার্যালয়ে সমবেত হয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ করে আলোচনায় বলেন, বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারাদিয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খলথেকে এ দেশকে মুক্তির লক্ষে ১৯৭১ সালে ৩ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধো চলাকালিন সময়ে ৭নং সেক্ররের আওতাধীন তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহুকুমার কাজিপুর থানাকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড প্রতিরোধে পাকহানাদার বাহিনির কবল থেকে মুক্ত করা হয়। বক্তাগন আরোও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলামায়ের দামাল ছেলেরা এই কাজিপুরে পাকহানাদার বাহিনির শক্তঘাটি আঞ্চলিক প্রধান ক্যাম্প দখল মুক্ত করতে এই কাজিপুরের কয়েকটি স্থানে সম্মূখ যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। তন্মধ্যে ১৭ নভেম্বর বরইতলা যুদ্ধোছিল ভয়াবহ।

ছিল রমজান মাস, কাজিপুরকে পাকহানাদার মুক্তকরতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরের দিকে ধিরে ধিরে এগোতেশুরু করে, নদীর পূর্বাঞ্চল নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর সহ আশপাশের কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধাগণ এসে বীরঅঞ্চলের নিরাপদ স্থান হিসেবে ঘাটি গোড়ে তোলেন বরইতলা গ্রামে। মুহুর্তেই স্থানীয় রাজাকারেরা খবরটি পাক সেনাদের কাছে পৌছালে ১৬ নভেম্বর দিনটি ছিল রমজানের, ভোরে সেহেরির পূর্ব মুহুর্তে পাকসেনারা রাজাকারদের সহায়তায় বরইতলা গ্রামের চারিদিক ঘিরেফেলে এবং বাড়িঘর তল্লাশি চালিয়ে নিরিহ নারী-পুরুষের উপর নির্যাতন ও বর্বরাতা শুররু করে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফর রহমান দুদু, আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পাকহানাদারদের এই নারকিয়তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েতোলে, শুরু হয় মুহুমুহু গুলিবর্ষণ, পাকহানাদার সৈন্যরাও এলোপাথাড়ি ভাবে গুলিবর্ষণ করতে থাকে, সংবাদ পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমির হোসেন ভুলুর নেতৃত্বে নদীর পূর্বপার এবং বীর অঞ্চলের রতনকান্দি, গান্দাইল, আলমপুর সহ আশপাশের সকল মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের চারিদিক থেকে ঘিরেফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে, তোপের মুখেপরে পাকসেনারা। ভোর থেকে সকাল গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে মুহুমুহু গুলিবর্ষণ এতে ৬ জন পাকসেনা ও একজন রাজাকার নিহত হয় এবং অনেক পাকসেনা আহত হয়, এতে বিগড়ে যায় পাক সেনারা, শুরু করে বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ, ইফতারের ঠিক আগ মুহুর্তে মসজিদের মুসুল্লি ও নিরিহ গ্রামবাসিদের ধরেনিয়ে পিঠমোড়া করে বেধে ব্রাশ ফায়ার করে ৩০ জনকে নির্মম ভাবে হত্যাকরে। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল প্রতিরোধ শুরু হয় অবিরাম গুলিবর্ষণ মুক্তি যোদ্ধাদের আক্রমণ দেখে দিশেহারা হয়ে পাকসেনারাও এলোপাথাড়ি গুলি ছুরতে ছুরতে পিছু হটতে থাকে। এই সম্মূখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা, গ্রামবাসি সহ ১০৪ জন শাহাদত বরন করেন। চলতে থাকে থেমে থেমে খন্ড যুদ্ধ অবশেষে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দিনভর চলে সম্মূখ যুদ্ধ, দিন ফুরিয়ে রাত্রি এতে পাকহানাদারা কোণঠাসা হয়ে পিছু হটতে শুরু করে, পালানো শুরু করে পাকসেনারা, অবশেষে শেষে ৩ ডিসেম্বর ভোরে কাজিপুর সম্পূর্ণ ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে এতে পাকহানাদার মুক্ত হয় কাজিপুর।

অনুষ্ঠানে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকি, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার (এলজিইডি) বাবলু মিয়া, সাংবাদিক সেলিম শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গোলাম কিবরিয়া, আনোয়ার হোসেন, কাজিপুর গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাতা আল মাহমুদ সরকার জুয়েল, আঃ সোবহান চাঁন, ফজলুল হক মনোয়ার, আঃ মতিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএসএল / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team