1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
সুবিধাভুগির বালু, রড ও কাঠে দূর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মানের অভিযোগ - বিএসএল বার্তা




সুবিধাভুগির বালু, রড ও কাঠে দূর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মানের অভিযোগ

তম্নয় আহমেদ নয়ন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

সুবিধা ভোগীদের কাঠ, রড, বাঁশ ও বালু নিয়ে দূর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তালিকায় নাম নিতেও গুনতে হয়েছে ১৫হাজার টাকা ও শ্রমিকদের খাওয়ার দায়িত্বও নিতে হয়েছে দুস্থ সুবিধা ভোগীদের।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানান, দূর্যোগ প্রবন পরিবারের দুস্থদের দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেয় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রনালয়। এ জন্য দুস্থ ও অসহায় ভুমিহীন (যার ১০ শতাংশের নিচে জমি) পরিবার থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়। সুবিধাভোগিদের তালিকা প্রনায়নে ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।

সুবিধাভোগিদের জন্য সামনে বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, কড়িডোর, রান্নাঘর, টয়লেট নির্মানে বরাদ্ধ দেয়া হয় জনপ্রতি দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। একজন সুবিধাভোগীকে একটি প্রকল্প ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এটি বাস্তবায়ন করছেন। তদারকি করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)। এ প্রকল্পের তালিকা প্রনায়নে আত্মীয়করন ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপনের বিরুদ্ধে। এ তালিকায় চেয়ারম্যান তার চাচা আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া ও চাচি আফরোজা বেওয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যে আফরোজার বড় ছেলে একজন প্রকৌশলী। শুধু আত্মীয়করনই নয়, অবৈধ সুযোগও নিয়েছেন বলে সুবিধাভোগীরা দাবি করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হচ্ছে ঘর। বারান্দা ও কড়িডোরে ইটের পিলার দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে জিআই তারে তৈরী করা বাজারের নিম্নমানের সিঁড়ি। দরজা জানালায় দেয়া হচ্ছে আম কাঠ যা বেঁকে যাচ্ছে বলে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ। মহেন্দ্রনগর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপনের চাচা সুবিধাভোগী ধনজঞ্জয় গ্রামের আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া বলেন, অন্যদের কাছে বেশি নিলেও আমার কাছে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ারম্যান ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। ঘর নির্মান শুরু হলে কাজের বালু, ভেটু বালু, রড, ছাউনির কাঠ, বাঁশ নিজেকে সরবরাহ করতে হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের দুই বেলা ভাত খাওয়াতে হয়েছে। সরকারী ভাবে শুধু ইট, টিন, সিমেন্ট ও শ্রমিক মজুরী সরবরাহ করা হয়েছে। এসব না দিলে কাজ বন্ধ রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন। সুবিধাভোগী আনোয়ার হোসেন বসুনিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, কাজ শুরু করেই বালু, রড, কাঠ দাবি করেন। না দিলে কাজ বন্ধ রাখেন চেয়ারম্যান। বাধ্য হয়ে দুই এনজিও থেকে ৬৫ হাজার টাকা ঋন নিয়ে এসব সরবরাহ করেছি। নামে সরকারী ঘর, বাস্তবে এ ঘর পেতে প্রায় লাখ টাকা গুনতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই গ্রামের অপর সুবিধাভোগী আফরোজা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে বেসরকারী একটি ফার্মের প্রকৌশলী হলেও ঘরে নাম দিয়েছেন ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন। কড়িডোর ও বারান্দায় ইটের পিলার দিলে ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকায় বাজারের সিঁড়ি কিনে দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপন বলেন, টাকার বিনিময়ে বা আত্মীয়করনে নয়, মানবতার পরিচয় দিতে নামগুলো দেয়া হয়েছে। কাজের অনিয়ম মনে হলে ইউএনওকে অভিযোগ করেন। যা করার তিনি করবেন।

সদর পিআইওর দায়িত্বে থাকা আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, ভেটু বালু বা রড ইস্টিমেটে ধরা নেই, তাই সুবিধাভোগীদের কাছে নিতে পারে। তবে কাঠ, বাঁশ, কাজের বালু ও খাওয়ার খরচ নেয়া ঠিক হয়নি। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, প্রথম পর্যয়ে ২৭৫ টি বরাদ্ধ এসেছে। যা কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে ৩৩০টি ঘর বরাদ্ধ এসেছে। সুবিধাভোগীদের কাছে কোন কিছু সরবরাহ নেয়া অন্যায়। ঘর নির্মানে সকল খরচ সরকার বহন করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসএল / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team