1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
পদ্মা-যমুনার ডুবোচরে আটকা ১৯ পণ্যবাহী কার্গোজাহাজ - বিএসএল বার্তা




পদ্মা-যমুনার ডুবোচরে আটকা ১৯ পণ্যবাহী কার্গোজাহাজ

টি.এম.কামাল; সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

পদ্মা-যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে ১৯টি পণ্যবাহী কার্গোজাহাজ। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরমূখী এসব জাহাজ বেড়ার কাজীরহাটের প্রায় ৩ কিলোমিটার ভাটিতে রাজধরদিয়া, চরশিবালয় ও নাকালিচরে নাব্যতা সঙ্কটে আটকা পড়েছে। আটকে পড়া জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

নদীর নাব্যতা সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করায় পণ্যবাহী জাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরে পৌঁছাতে পাড়ছে না। মাঝ নদীতে আটকে পড়া জাহাজ থেকে লাইটারেজ করে রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য বাঘাবাড়ী বন্দরে আনা হচ্ছে।

বেড়া কাজিরহাট ঘাটে রুপপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যার উজ্জল হোসেন জানান, চট্রগ্রাম, নারায়নগঞ্জ ও মংলা বন্দর থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি জুয়েল, এমভি ফেয়ারী, ওটি আছিয়া বেগম, এমভি সুমাইয়া হোসেন, এমভি ফয়সাল, এমভি ফয়সাল, এমভি ফয়সাল-৮, এমভি ইব্রাহীম খলিল, জুয়েল, আল তায়েফ, এমভি আফিফা, এমভি ওয়ারিশ আহনাফ, সততা পরিবহন, মাজননী, বিসমিল্লাহ, আছিয়া পরিবহন, ভাই ভাই, আবু ছালে, এমভি জুয়েলসহ ১৯টি জাহাজ রাজধরদিয়া, চরশিবালয় ও নাকালির চরে বিভিন্ন পয়েন্টে পদ্মা ও যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে। কার্গোজাহাজগুলো রাসায়নিক সার, কয়লা, গম ও চাল নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে যাচ্ছিল।

মোহনগঞ্জ থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১৫-১৬টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় স্রোতের টানে বালু ভাটিতে গিয়ে ডুবোচরের সৃষ্টি হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ যমুনা ও পদ্মা নদীতে ড্রেজিং না করায় আটকে পড়া জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে চাহিদার ৯০ ভাগ জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ নৌপথের ৬টি পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বিসিআইসি’র বাঘাবাড়ী ট্রানজিট বাফার গুদাম সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে রাসায়নিক সার চাহিদার ৯০ ভাগ বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে যোগান দেয়া হয়। যমুনা নদীর নাব্যতা সঙ্কটে বাফার গুদামগুলোতে আপদকালীন সারের মজুদ গড়ে তোলার কাজ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিসিআইসি’র বগুড়া আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, ইরি-বোরো আবাদ মওসুমে উত্তরাঞ্চলে ১২ লাখ টন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনীয় সারের বেশির ভাগই বাঘাবাড়ী বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। পরে সেখান থেকে সড়ক পথে বাফার গুদামে পাঠানো হয়। বাফার গুদামগুলোতে আপদকালীন মজুদ আছে দুই লাখ ২৫ হাজার টন। বাঘাবাড়ী নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় আপদকালীন সার মজুদের কাজ কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অফিসের একটি সূত্রে জানা যায়, রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ১০ থেকে ১১ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে এ নৌপথে কোথাও কোথাও ৮ থেকে ৯ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে পানির স্তর কমে ৭ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত নৌপথের চরসাফুল্লা, নাকালিয়া, নাকালী, রাজধরদিয়া, নগরবাড়ীসহ ৬টি পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। গত রোববার থেকে রাজধরদিয়া, চরশিবালয় ও নাকালী পয়েন্টে ডুবোচরে ১৯টি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে।

বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, বাঘাবাড়ী থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার নৌ-পথের রাজধরদিয়া, হরিরামপুর, চরশিবালয়, নাকালী ও রাকশাসহ ৬টি পয়েন্টে পানির গভীরতা কমে ৮ থেকে ৯ ফুটে দাঁড়িয়েছে। কয়েক স্থানে নৌ-চ্যানেল সরু হয়ে গেছে। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ ড্রেজিংয়ের জন্য বিআইডাব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। বাঘাবাড়ী নৌবন্দরমূখী রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য পণ্যবাহী কার্গোজাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বন্দরে পৌছাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং শুরু না করায় নাব্যতা সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারন করছে।

এমভি বিজয় নামে একটি জাহাজের মাস্টার মোঃ জহির উদ্দিন স্বপন জানান, দৌলতদিয়া থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার নৌপথের ৬টি পয়েন্টে পানির গভীরতা কমে দাড়িয়েছে ৭ থেকে ৯ ফুট। সরু হয়ে গেছে নৌচ্যানেল। মোহনগঞ্জ, পেঁচাকোলা পয়েন্ট কার্গোজাহাজ চলাচলের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ পয়েন্টে দুটি জাহাজ পাশাপাশি চলাচল করতে পারছে না। ওই পয়েন্টে জেগে উঠা চরের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় দিনদিন চ্যানেলটি আরো সরু হয়ে যাচ্ছে। এই পয়েন্টে দ্রুত ড্রেজিং না করা হলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিআইডাব্লিউটিএ আরিচা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই এসময় দৌলতদিয়া থেকে বাঘাবাড়ী নৌপথে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দেয়। বর্তমানে এ রুটে ৭ থেকে ৮ ফুট পানির গভীরতা রয়েছে। নৌ-চ্যানেল সচল রাখার জন্য যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজিং শুরু করা হবে। জাহাজগুলো অতিরিক্ত মালামাল বহন করায় ডুবোচরে আটকা পড়ছে। এছাড়া পেঁচাকোলা ও মালদাহপাড়ার মাঝে যমুনা নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠায় নাবাত্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

বিপিসি’র বাঘাবাড়ী রিভারাইন অয়েল ডিপোর যমুনা কোম্পানির ম্যানেজার এ, কে, এম জাহিদ সরোয়ার জানান, যমুনা ও পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা সঙ্কট নিরসনের জন্য বিআইডাব্লিউটিএ’কে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিএসএল / জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team