1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
দুই দিন পার হলেও পলাতক কয়েদির সন্ধান মেলেনি - বিএসএল বার্তা




দুই দিন পার হলেও পলাতক কয়েদির সন্ধান মেলেনি

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে
ছবি কারাগার
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার দুই দিন পার হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পলাতক কয়েদির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শনিবার দিনভর কারাগার পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন, ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম এবং মানিকগঞ্জ কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন, শনিবার বিকেলে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে। গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ আমরা তদন্তর প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করেছি। বাকি কার্যক্রম খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনারা জানতে পারবেন। নতুন করে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে সুপারিশ করবে। আমরা তদন্ত করছি, এ ঘটনায় কারা দায়ী, কীভাবে পালিয়ে গেল এগুলো বের করার চেষ্টা করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলার সুযোগ নেই।’
এদিকে কারাগার থেকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পরপরই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম) মো. শরিফুর রহমান, কোনাবাড়ি থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কোনাবাড়ি থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন জানান, কারাগার থেকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে পুলিশ কয়েদি আবু বকর সিদ্দিককে আটকের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চণ্ডীপুর গ্রামেও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কয়েদি আবু বকর সিদ্দিক এর আগেও কাশিমপুর কারাগার থেকে ২০১৫ সালের ১৩ মে আত্মগোপন করে ছিলেন। তখন তিনি কারাগারের সেল এলাকায় সেফটি ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। পরদিন তাকে একটি ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনাটির কিছুদিন তাকে কারাগারে শিকল পরিয়ে রাখা হতো। এতে আবু বকর মানসিকভাবে কিছুটা বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে তাকে শিকলমুক্ত করে দেওয়া হয়। কারা চত্বরে তিনি অন্য বন্দীদের সঙ্গে কাজকর্ম করতেন। তবে তাকে মানবিক কারণে কাজের জন্য চাপ দেওয়া হতো না। বৃহস্পতিবারও তিনি অন্য কারাবন্দীদের সঙ্গে মুক্ত অবস্থায় ছিলেন। সন্ধ্যায় বন্দীদের গণনাকালে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে কারাগারের ছয়টি ভবনের ২৪টি কক্ষে তার খোঁজ না পেয়ে সব বন্দীদের রোলকল  করে আবু বকরের নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা কতৃপক্ষ।
ওসি আরও জানান, কারাগারের পয়োনিষ্কাশন  লাইন, সেফটি ট্যাংক, সীমানা প্রাচীরসহ সম্ভাব্য সকলস্থান সমূহ তল্লাশি করেছেন। এতে কোথাও কয়েদি আবু বকরের সন্ধান মেলেনি। যেহেতু নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পরও কারা অভ্যন্তরে তার সন্ধান মেলেনি তাই ধারণা কারাগার থেকে কয়েদি আবু বকর পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে কারাগারের জেলার মোহাম্মদ বাহারুল ইসলাম বাদি হয়ে কোনাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার দুই দিনেরও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ও জেলার স্থানীয় কোন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ধরছেন না।
উল্লেখ্য, আবু বকর সিদ্দিক ২০১১ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির আসামি হিসেবে কাশিমপুর কারাগারে আসেন। ২০১২ সালের ২৭ জুলাই তার সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন উচ্চ আদালত।
এদিকে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের প্রধান কারারক্ষী, সহকারী প্রধান কারারক্ষী ও সাত কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও ৫ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শুক্রবার বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল আরবার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team