1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
'ঈদ আনন্দ' বানের জলে ভাসছে - বিএসএল বার্তা




‘ঈদ আনন্দ’ বানের জলে ভাসছে

বিএসএল বার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

রাত পোহালেই ঈদ। কিন্ত মাসব্যাপী বন্যায় বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা পাড়ের মানুষের এবার ঈদ আনন্দ নেই বললেই চলে। বাড়িঘর, ফসল, সহায়-সম্বল হারিয়ে মানুষ দিশেহারা। অনেকেই এখনো খোলা জায়গায় বাস করছেন। বন্যার ধকল সামলাতেই ব্যস্ত তারা। চারিদিকে শুধু পানি আর পনি। বইছে প্রবল স্রো। সাথে নদীভাঙন। সব হারিয়ে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর জীবনে লাগেনি ঈদের রং।

বেঁচে থাকতেই যেখানে নিরন্তন সংগ্রাম করতে হচ্ছে অসহায় কৃষক ও তাদের পরিবারকে, সেখানে ঈদ এবার কোনো উৎসব হিসেবে দাঁড়ায়নি। হাত না চললে যাদের পেটে ভাত জোটে না, ঈদের মতো উৎসবের দিনটি তাদের কাছে ভাবলেশহীন। করোনাক্রান্তির সাথে এবার যোগ হয়েছে বন্যা। তার ওপর নদীভাঙন। সব মিলিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলো সন্তানদের মুখে তুলে দেওয়ার মতো দুই টুকরো মাংস জোটাতে না পেরে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়েই পার করবেন ঈদের দিনটি।

যমুনা নদীর চরে সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় ঘর-দুয়ার, ধান-চাল, জামা-কাপড়, হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু বানের জলে ভেসে গেছে। ঘরে খাবার নেই। কোরবানি দেওয়া সামর্থ্যবান অনেকের জন্যও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, একদিকে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা। অন্যদিকে বন্যা আর ভাঙন। এখন আমাদের কিছুই নাই। গরিব মানুষের ঈদ কি? আমাদের নাই ঈদ, নাই কুরবানি। তাই এবার ঈদ কাটবে আর দশদিনের মতো।

বৈশাখী চরের সামস উদ্দিন। বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে তার সহায় সম্বলহীন ৫ সদস্যর পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধের ওপর খোলা জায়গায় পলিথিনের নিচে। তিনি জানান, যা সুখ শান্তি সবই বানের পানিত ভাসি গ্যাছে। বাড়ি-ঘর, আসন-বাসন যাকিছু কষ্ট করি করচি হগলি গ্যাছে। এ্যালা কিসের ঈদ, কিসের আলন্দ। আল্লায় সুখ দেয় নাই, কী দিবে বান্দায়?

বন্যায় তিন সদস্যর পরিবার নিয়ে বাঁধে আশ্রিত মোকলেছার রহমান জানান, দুবেলা ভাতই জোগাড় করতে পারি না, সেখানে ঈদের আনন্দ করব কিভাবে। বাড়ি মেরামত নিয়েও চিন্তায় আছি। কাজ না থাকায় হাতে টাকা নেই। এই বন্যা আমাদের সর্বস্বান্ত করেছে। কোরবানি তো দূরের কথা, ঈদের দিন পরিবারের সবার মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব কি-না জানি না।

ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়েছেন দেড় হাজার পরিবার। নদীভাঙনে গৃহহীন হয়েছে চরের কমপক্ষে ২০০ পরিবার। এসব মানুষের পক্ষে আনন্দের সঙ্গে ঈদ করা কষ্টকর হবে। এমনকি অবস্থাসম্পন্ন অনেকের পক্ষে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হবে না। বন্যার এ ধকল কাটিয়ে উঠতে কয়েক মাস সময় লাগবে।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team