1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
টাঙ্গাইলে চিকিৎসক কর্তৃক রোগীর সনদ ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ - বিএসএল বার্তা




টাঙ্গাইলে চিকিৎসক কর্তৃক রোগীর সনদ ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

খায়রুল খন্দকার; ষ্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইলঃ
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শহিদুল্লাহ কায়সারের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া (৬৮)-এর সনদ ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে বিভিন্ন ইন্টানির্ ছাত্রীদের যৌন হয়রানী করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছেনা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া এলেঙ্গা পৌরসভার মহেলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানে ছেলে। রোববার (২৪ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ লাঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে দেখতে যান। এসময় হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও অভিযুক্ত চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের মাঝে চরম ক্ষোভ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া পা ভাঙ্গা জনিত কারণে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলার আট নং ওয়ার্ডের এক নং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত সীটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ কায়সার গত ২১ নভেম্বর সকালে তাকে ভিজিট করতে এসে রোগির ফাইল দেখেন। এসময় রোগীর ফাইলে রাখা মুক্তিযোদ্ধা শাজাহানের মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখে ক্ষিপ্ত হন এবং বলেন ‘‘এই সনদ কি রোগির চিকিৎসা করবে, না ডাক্তার করবে’’ বলে সনদটি ফাইল থেকে ছিড়ে ফেলে দেন। ডাক্তারের এ আচরণে আশপাশের লোকজন বিস্ময় প্রকাশ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পরলে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার মোঃ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিহাতী উপজেলার সাবেক কমান্ডার মীর মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তা ইউনুস আলী, বাসাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ নূরুল ইসলাম, নাগরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব সুজায়েত হোসেন, খন্দকার আনোয়ার হোসেন, মোঃ সোলায়মান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মাহমুদুর রহমান খান বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান মেনন রাসেল সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা ও সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূঁইয়া জানান, আমার ফাইল দেখার সময় ডা: শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন এই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট এই ফাইলে কেন, এই সার্টিফিকেট চিকিৎসা করবে না আমি চিকিৎসা করবো এই বলে ফাইল থেকে সার্টিফিকেট ছিড়ে ফেলে দেন।

পরে আমার ছেলে সার্টিফিকেটটি কুড়িয়ে রাখে। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ছিড়ে আমাকে অপমান করা মানে সারা বাংলাদেশে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হলো। তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের উপযুক্ত বিচার চান।

মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান ভূইয়ার জামাতা আল আমিন বলেন, আমার শ্বশুর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেখিয়েই ভর্তি করানো হয় এবং রোগির ফাইলে তা রাখা হয়। এক্ষেত্রে ডা. মো. শহীদুল্লাহ কায়সার সনদ দেখে কেন ক্ষিপ্ত হয়ে তা ছিড়ে ফেললেন আমি বুঝতে পারলাম না। আমি মনে করি এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মাহমুদুর রহমান খান বিপ্লব জানান, এ ঘটনায় মুক্তিাযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। একই সাথে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। ঘটনা সম্পর্কে ডা. মো. শহীদুল্লাহ কায়সারের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। নাম প্রকাশ করা না সত্যে জেনারেল হাসপাতালের ম্যাস ও ইন্টানি শিক্ষার্থীরা জানান, ডাক্তার শহিদুল্লাহ কায়সার স্যার কথায় কথায় আমাদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে হাত দেয়। আমাদের সাথে নানা অনাশীল কথা বলে। এমনকি তিনি নানা ভাবে আমাদের যৌন হয়রানী করে থাকেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।

জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team