1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
ব্রাহ্মণপাড়ায় করোনাকালেও নেওয়া হচ্ছে এনজিওর কু - বিএসএল বার্তা




ব্রাহ্মণপাড়ায় করোনাকালেও নেওয়া হচ্ছে এনজিওর কু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাধারণ গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ করে যথারীতি কিস্তি আদায় করছেন এনজিওগুলো। এনজিও কর্মীদের আচরণেও নেই মানবিকতা।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউন চলছে এলাকায় এলাকায়। করোনা আতঙ্কের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারে চলছে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন অবস্থা। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে চতুর্দিকে গভীর একটা সংকট দানা বেঁধেছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপড়াও এরকম চিত্রের ব্যতীক্রম নয়। অথচ এরইমধ্যে এরকম সংকটময় মুহূর্তে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না-করে মহল্লায় মহল্লায় কিস্তি আদায় করছে এনজিওগুলো। এনজিওকর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের ঘরে গিয়ে জোরপূর্বক কিস্তি আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ পরবর্তীতে আর ঋণ দেবে না বলেও ঋণগ্রহীতাকে ভয় দেখিয়ে কিস্তি আদায় করছেন। এমন শঙ্কায় অনেকে সুদে টাকা এনেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন বলেও জানান অনেকেই। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনায় দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ঘরে অবস্থান করেছিলেন দীর্ঘদিন।
বলা বাহুল্য, দীর্ঘদিন অনেক পরিবারের আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় মানুষের মাঝে বাড়ছে হতাশা। এর উপর আবার কিস্তির জন্য তাড়া করছেন এনজিওকর্মীরা। সব মিলিয়ে ভালো নেই সমাজের অভাবগ্রস্থ লোকেরা। একদিকে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, আর অন্যদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তির বোঝা এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। এরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ বলছেন তারা কোথাও চাপ সৃষ্টি করছেন না। কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তির টাকা দিলে তা নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এদিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বালিনা গ্রামের মোবারক জানান, পারিবারিক সমস্যায় জোগান দিতে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় পরিবারে আয়-রোজগার থেমে যাওয়ায় কিস্তি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এনজিও কর্মী রেগে ওঠে কিস্তি পরিশোধ করতে জোর প্রয়োগ করেন। শিদলাই গ্রামের ফারুক মিয়া জানান, তিনি দিশা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিছুদিন কিস্তি আদায় বন্ধ থাকলেও বর্তমানে মাঠকর্মী কিস্তির টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। চারিপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলাম বাবুল জানান, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কোন এনজিও তা মানছেন না। প্রতিদিনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করতে গ্রাহকদের সাথে অশালীন আচরণ করে আসছে। এছাড়াও প্রত্যয়, এ্যামবুলা ফাউন্ডেশন, সাজেদা ফাউন্ডেশন, পপি, আশা, জাগরণী, বুরে‌্যা বাংলাদেশ, পিএইচপি, ব্র্যাক সহ অন্যান্য স্থানীয় এনজিও গুলোর বিরোদ্ধে রয়েছে এধরণের জোরপূর্বক কিস্তি আদায়ের নানা অভিযোগ।

এব্যাপারে দিশা এনজিও ব্রাহ্মণপাড়া শাখার ম্যানেজার শামীম হোসেন জানান, আমরা নিয়মিত কিস্তি আদায় করছি সত্য। তবে কারো কাছ থেকে জোর পূর্বক কিস্তির টাকা আদায় করছিনা। ব্যাক ব্রাহ্মণপাড়া শাখার ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, কিস্তি আদায়ে গ্রাহকদের হয়রানী না করতে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা মেনেই ঋণ গ্রহিতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করছি এবং নতুন করে ঋণের টাকা দিচ্ছি।

দেশের ক্রান্তিকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঋণগ্রহীতাদের মানষিক চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায়ের নামে এনজিও গুলোর হয়রানী বন্ধের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন ভুক্তভোগীরা।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team