1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
বগুড়ায় কয়েক দফা অভিযান চালানোর পরও থেকে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন - বিএসএল বার্তা




বগুড়ায় কয়েক দফা অভিযান চালানোর পরও থেকে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন

বিএসএল বার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২০
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বগুড়ায় ধুনট উপজেলার বাঙ্গালী নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে নবাব আলী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি স্থানীয় নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে তার বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি ধ্বংস করেছে।

কিন্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আজো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি আবারো বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করছেন। চলমান এই বালু উত্তোলনের ফলে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও সেতু ধসের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাঙ্গালী নদীর ওপর ২০০৮ সালে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর মাঝে ওই সেতুর ১৪টি পিলার রয়েছে। এ অবস্থায় সেতুর উত্তর পাশে নদীর বুক থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী। প্রতিদিন তিনি ওই বালু বিক্রি করে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের খননযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবুও থামাতে পারেনি তার বালু উত্তোলন। প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তার সাথে গোপন যোগাযোগ থাকায় অভিযানের খবর আগেই পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নবাব আলী। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি আদালত। তাই নবাব আলী আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধুনট উপজেলা শহর থেকে জেলা শহরের সাথে যোগোযোগের জন্য বাঙ্গালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। সেতুর পূর্ব পাশে নিমগাছি ও পশ্চিম পাশে বেড়েরবাড়ি গ্রাম। সেই উত্তর পাশে ৩০০ মিটার দূরে খননযন্ত্র বসিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন। প্রতিট্রাক বালুর মূল্য ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। প্রতিদিন ১৫০-২০০ ট্রাক বালু বিক্রি করা হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিতি ১০-১২ জন এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন বর্ষা মৌসুম। নদীর পানির প্রবল স্রোতে দুই পাশের ফসলি জমি ও অনেক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করায় নবাব আলী ও তার লোকজন তাদের মারপিটের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করছেন।

নবাব আলী জানান, বাঙ্গালী নদী থেকে বালু উত্তোলনে সেতুর ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এলাকার কিছু মানুষ সুবিধা না পেয়ে শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নবাব আলীকে না পেয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় আর অভিযান চালানো হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team