1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
যুবলীগের কাণ্ডারি শেখ পরশ এর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে যুব সমাজ - বিএসএল বার্তা




যুবলীগের কাণ্ডারি শেখ পরশ এর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে যুব সমাজ

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান টিপুঃ
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সফলতা কামনা করে নানা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা এবং উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের প্রতি সমগ্র বাংলা ও বাঙালি জাতির অবিচল আস্থা ও সমর্থন চিরকালের।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা যুবলীগের শনিবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে শেখ ফজলে শামস পরশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণার পর আওয়ামী যুবলীগের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ নিজের প্রথম অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেন আই হেটস পলিটিকস থেকে বেরিয়ে এসে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে দেশের কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে’।

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তার কন্যার দেশের প্রতি হৃদয়ের ভালবাসা থেকে আমি সাহস পাই। তাই আজ আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই, আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হচ্ছে আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে দায়িত্বগুলো পালন করব।

আওয়ামী লীগ শহীদের রক্ত দ্বারা তৈরি একটি অনুভূতির নাম- আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে নবনির্বাচিত যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আমি একজন শহীদের সন্তান। ছোটবেলায় আমি ও আমার ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস মা-বাবাসহ অন্যান্য স্বজনদের হারিয়েছি। তাই আমি রাজনীতি থেকে অনেক দূরে ছিলাম। আমাদের দুঃখ শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা অনুধাবন করেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন কিন্তু ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের কারণে সে বিপ্লব সম্পূর্ণ হয়নি উল্লেখ করে যুবলীগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি দিয়েছেন, সেই কর্মসূচিকে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের একটি কর্মসূচি হিসেবে দেখি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর বড় বোন শেখ আছিয়া বেগম এর একটি কথোপকথন- ‘বঙ্গবন্ধু; বুঁজি তোমার মনিকে আমারে দাও, ও রাজনীতি করুক। শেখ আছিয়া বেগম; তুমি রাজনীতি করো তাতেই আমরা পুরো পরিবার উৎকন্ঠায় থাকি।
বঙ্গবন্ধু ; বুঁজি রাজনীতিতে আমার তো কেউ ছিলো না, মনি’র তো আমি আছি।” এরপর বোন আর তাঁকে না করতে পারেন নাই।

শেখ ফজলুল হক মনি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের বড় ছেলে (আদরের ভাগ্নে)। শেখ ফজলুল হক মনি’কে বঙ্গবন্ধু তাঁর বোনের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সের এই ক্ষণজন্মা পুরুষ একাধারে ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান, দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, কবি, ছোট গল্পকার ও যুবলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

শেখ ফজলুল হক মনির সুযোগ্য বড় সন্তান নবনির্বাচিত যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ মাত্র ০৫ বছর বয়সে বাবা-মা হারিয়ে দাদি-চাচা-ফুফুদের মাঝে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের নির্মম ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী ও সাধারন জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেবেন সেই প্রত্যশা ছিল সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। শেখ ফজলুল হক মনি যেমন বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে ছাত্ররাজনীতি, স্বাধীনতা আন্দোলন, রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় অর্জন করেছেন, স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠনে যুবসমাজকে সংগঠিত করে প্রতিষ্ঠা করেছেন যুবলীগ। তেমনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শেখ ফজলে শামস পরশ জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে আগামীর সুখী সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়ার পথচলায় শামিল হবেন এটাই প্রত্যাশিত।

এতোদিন ধরে রাজনীতিবিমুখ শেখ ফজলে শামস পরশ তার ফুপু শেখ হাসিনার নির্দেশেই রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব তুলে আনার অংশ হিসেবেই শেখ ফজলে পরশ এর মতো একজনকে রাজনীতিতে আনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নিজস্ব চিন্তার ফসল।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে যুবদের রাজনৈতিক শিক্ষায় সচেতন করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠা করেন যুবলীগ। ১৯৭৪ সালে প্রথম যখন জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় তখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ৩৩ বছর বয়সী শেখ ফজলুল হক মনি। সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ৪০ বছর থাকলেও ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় কংগ্রেসের পর বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। দীর্ঘদিন যুবলীগ নেতৃত্বের বয়স নিয়ে সমালোচনার মুখে সপ্তম কংগ্রেসে ৫৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে যুবসমাজকে উন্নয়নের মিছিলে সামিল হতে হবে। তাদের বাইরে রেখে সেই স্বপ্ন কখনোই অর্জিত হতে পারে না। বিবেকের সেই তাড়না থেকেই তরুণদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং মেধা-মননের বিকাশ ঘটিয়ে তাদের বিনির্মাণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করবেন নবনির্বাচিত যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

অপরদিকে নববির্বাচিত সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল নিজের প্রথম অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন- নেত্রী আমাকে মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করলেন, সাধারণ সম্পাদক করলেন, সভাপতি বানালেন এখন আবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব দিলেন। জীবন দিয়ে হলেও শেখ হাসিনার বিশ্বাস রক্ষা করব।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুবলীগ নেতাকর্মীরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দেশগড়ার কাজে আত্মনিয়োগের পাশাপাশি অপশক্তির অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারংবার রাজপথে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে বগুড়ায় যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক খসরু, চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা মৌলভী ছৈয়দ আহমদ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের তাজা রক্তের ঋণ শোধ করার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয় স্বৈরশাসক এরশাদ। এছাড়া ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুবলীগের অনবদ্য ভূমিকা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, বিএনপি জোট সরকারের সরাসরি মদদে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে যুবলীগ ছিলো সোচ্চার,অপ্রতিরোধ্য। ২০০৫ সালের লগি-বৈঠা আন্দোলন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী যুবলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

১/১১ এর প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা কারান্তরীণ হলে তার মুক্তির আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে কারা নির্যাতনের শিকার হয় শত-সহস্র যুবলীগ নেতা কর্মী। ২০০৮ সালে ভোট বিপ্লবের অগ্রভাগে আওয়ামী যুবলীগের অসামান্য অবদান রয়েছে। যুদ্ধপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের বিচারকার্য সম্পন্ন এবং ২০১৩ সালের ৫ এবং ৬ মে হেফাজতের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ সরকারের নিরবিচ্ছিন্ন ছায়াসঙ্গি হিসাবেও যুবলীগ রাজপথে সংগ্রাম অব্যাহত রাখে।

ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা যুবলীগের নেতাদের ত্যাগের রাজনীতির মন্ত্র দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমাদের সবাইকে এ কথাটা মনে রাখতে হবে- ভোগে নয় ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ব। কী পেলাম কী
পেলাম না, সে চিন্তা না।

“কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, কতটুকু মানুষের কল্যাণে কাজ করলাম, সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা-ভাবনা। আমাদের যুব সমাজকে আমরা সেভাবে গড়ে তুলতে চাই।” সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের উদ্বোধন করে একথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুব সমাজ রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার। সময়ের শ্রেষ্ঠ অনুধাবণ। এই যুবসম্প্রদায় সঠিক পথে থাকুক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা মনেপ্রাণে সেটাই চান। আর তার-ই প্রতিফলন ঘটেছে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্বের মধ্যদিয়ে। দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। শুদ্ধি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে যুব রাজনীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুব নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী শেখ হাসিনা
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন প্রাপ্য।

লেখকঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান টিপু; সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবলীগ কর্মী।

জি এস




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team