1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
বগুড়া শেরপুরের সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অন্যরকম ঈদ উপহার - বিএসএল বার্তা




বগুড়া শেরপুরের সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অন্যরকম ঈদ উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমানের এক অন্যরকম ঈদ উপহার মানবপ্রেমী মানুষের মনে সারা জাগিয়ে তুলেছেন। অনেকেই শত শত মানুষকে ঈদ উপহার দিয়ে সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে দিচ্ছেন। এ রকম ২ টি শিশুকে ঈদ উপহার দেওয়ার কথা কেউ চিন্তাও করেনি, যে চিন্তাটি করে তা বাস্তবায়ন করেছেন শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান।

খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্য করে বলেছেন,

পল্লব বিডি বলেছেন ,ধন্যবাদ ভাই বরাবর এর মতোই আপনি মানবিকতার উদাহরণ দিয়ে যাচ্ছেন গাজিউর ভাই।

তারিকুল ইসলাম তারেক বলেছেন, আমি সত্যিই অভিভূত,, আনন্দিত,,, একজন বাবা সত্যিই একজন বাবা,, আপনাকে শেরপুর বাসীর পক্ষ থেকে আবারো অভিনন্দন,,, টাকা থাকলে ধনী হওয়া যায় না,, যার মন আছে হৃদয় আছে তাকেই মানুষ বলা যেতে পারে,, আপনি সত্যিই একজন সাদা মনের মানুষ সেলুট আপনাকে,,, আল্লাহ আপনার মনের নেক আশা পূরণ করুক।

পাভেল ইসলাম বলেছেন, Gaziur Rahman ধন্যবাদ দিয়ে আপনাদের ছোট করবো না, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি বাচ্চাদের সহ আপনাদের সবাইকে আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুক সুস্থ রাখুক।অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপহারটি আসলেই অন্যরকম ঈদ উপহার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান বলেন, মাস চারেক আগের ঘটনা। শেরপুর থানার সূত্রাপুর গ্রামে পরকিয়া প্রেমের জন্য সালমা তার প্রেমিক শাহীনকে দিয়ে স্বামী শহিদুলকে হত্যা করায়। হত্যার পরিকল্পনা হিসেবে সালমা তার স্বামীকে বলে যে তার মাথার সমস্যা হয়েছে। সন্ধ্যার পর নদীর সাত ঘাটের পানি এনে খাওয়ালে সে ভাল হয়ে যাবে। অন্যদিকে প্রেমিককে বলে তার সহযোগিদের নিয়ে উৎপেতে থাকতে। শহিদুল নদীর ঘাটে গেলে পানি নেওয়ার সময় যেন তাকে শেষ করা হয়। হত্যার পরে পরকিয়া প্রেমিক শাহীন লাশটি নদীর মধ্যে ফেলে দিয়ে পাড়ে এসে চিৎকার করতে থাকে যে শহিদুল কতিপয় লোক সহ তাকে ধরে নদীতে নিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। সে বহু কষ্টে প্রানে বেঁচে গেছে। এখানেই শেষ নয়। শাহীন মানুষিকভাবে ভারসাম্য হওয়ার ভান করে হাসপাতালে ভর্তি থাকে। তার অভিভাবকেরা থানায় শহিদুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অন্যদিকে সবাই মনে করে শহিদুল পুলিশের ভয়ে পালিয়েছে। কিন্তু বিধি বাম, তৃতীয় দিনে জেলেদের জালে শহিদুলের লাশ পাওয়া গেলে শাহীন হাসপাতাল থেকে পলায়ন করে। পরবর্তীতে বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় শেরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় শাহীনকে গ্রেফতার করলেও সে পাগলের নিখুঁত অভিনয় করতে থাকে। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যা কান্ডের পিছনের পরকিয়া প্রেমের কাহিনি চলে আসে। অন্যান্য আসামীদের সাথে সালমাকেও গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ জীবনে একটি বিষয় খুব কষ্ট দেয়। আইন শুধু অপরাধীদের শাস্তি দেয় কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়না। শহিদুল এবং সালমার দাম্পত্য জীবনে দুটি ফুটফুটে শিশু রয়েছে। বড়টি মেয়ে নাম সুবর্ণা বয়স ৮ বছর। আর ছোটটি ছেলে নাম শিহাব বয়স ৬ বছর। মাত্র চার মাস আগেও তারা ছিল রাজকন্যা রাজপুত্রের মত। আর আজ তারা এতিম অসহায়। এদের ভাগ্যের পরিনতি দেখে আমার এত কষ্ট লাগে বুঝাতে পারবনা।

আমি এসপি স্যারকে এদের কথা বলা মাত্রই স্যার এদের ঈদ উপহার প্রদানের নির্দেশ দেন। আজ সুবর্না আর শিহাবকে এসপি স্যারের পক্ষ থেকে ঈদের নতুন পোষাক ও ঈদ সামগ্রী প্রদান করতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। সবাই সুবর্না আর শিহাবের জন্য দোয়া করবেন।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team