1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
করোনাকালেও নেতারা লুটছে করতোয়ার বালু - বিএসএল বার্তা




করোনাকালেও নেতারা লুটছে করতোয়ার বালু

রংপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

করোনাকালে মানুষ যখন ঘরবন্দি, রংপুরের পীরগঞ্জে তখন করতোয়া নদীর বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। আর এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত একাধিক জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বালু উত্তোলন বন্ধে ১৪৪ ধারা জারির পরও তারা নদীর বুকে হানা দিয়ে প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু লুটে নিচ্ছে তারা। নদীপারের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ট্রাক বালু উত্তোলন করে মজুদ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে করতোয়ার ওপর নির্মাণাধীন জয়ন্তীপুর ব্রিজের নিচ থেকে উত্তোলকৃত প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক বালু রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পীরগঞ্জে করতোয়া নদীঘেঁষা টুকুরিয়া, বড়আলমপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের অর্ধশতাধিক স্থানে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। করোনাভাইরাস আতঙ্কে লোকজন বাড়িতে অবস্থান করার সুযোগে সংঘবদ্ধ চক্রটি বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। উত্তোলনকৃত এসব বালু পরিবহনে প্রতিদিনই বালুভর্তি ট্রাক চলাচল করায় পাকা ও কাঁচা রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, ভাঙছে আবাদি জমি। শুধু বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণেই করতোয়ার কয়েকটি খেয়াঘাট দিয়ে রংপুর-দিনাজপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ করেও বালুখেকোদের থামানো যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসন এ ব্যাপারে আইনি পদেক্ষেপ নেবেন- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সাধারণ মানুষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর-দিনাজপুর জেলার পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাটের প্রায় ২৫টি গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। নদীটির তলদেশে বিভিন্ন স্থানে বোমা মেশিন এবং শ্যালোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহড়া চলছে। এতে নদীপারের জমি, রাস্তা-ঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সম্প্রতি ১৪৪ ধারা জারিসহ বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করলেও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চক্রটি তা মানছে না। উল্টো নদীপারেই কয়েকটি স্থানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের প্রায় এক লাখ ট্রাক বালুর মজুদ করে রেখেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন জানান, করতোয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন জয়ন্তীপুর ব্রিজের নিচ থেকে একাধিক বোমা মেশিন বসিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক বালু উত্তোলন করে ঘাটেই মজুদ করে রেখেছে।

ব্রিজের নির্মাণ শ্রমিকরা অভিযোগে জানান, ব্রিজের নিচ থেকে তাকে বালু উত্তোলনে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা কর্ণপাত করেননি, বরং হুমকি দিয়েছেন। তবে বালু উত্তোলনকারী সুলতান মাহমুদ বলেন, আমার সাথে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সালমান সিরাজ রিজুর পার্টনারশিপ রয়েছে। বালুর মজুদ করেছি আমার নানা-মামার জমিতে।

টুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী খননের উত্তোলনকৃত বালু নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর উপজেলা প্রশাসন উল্লেখিত স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তা না মেনে পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মন্ডলের ভাই মোস্তাফিজার রহমান মানিক এবং এক ভাইস চেয়ারম্যান জাফরপাড়া গ্রামের জনৈক উজ্জলের নেতৃত্বে বিছনা গ্রামে বালু উত্তোলন করে মজুদ করে রেখেছে।

এ ছাড়া নদীটির বড়আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুরিয়ায় (মধ্যপাড়া) মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক সেলিম মিয়া ও তার ভাই শামীম মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সালমান সিরাজ রিজু, যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন এবং জামরুল মেম্বারসহ উপজেলার এক শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রায় ৩০ হাজার ট্রাক বালুর মজুদ করে রেখেছে। বাঁশপুকুরিয়া মন্ডলপাড়ায় উপজেলা যুবলীগ নেতা গোলাম রব্বানী এবং এনছার আলী মেম্বারের ভাই শামিম প্রায় ১০ হাজার ট্রাক বালু মজুদ গড়েছে এবং প্রতিদিনই ওই বালু বিক্রিও করছে। বড়আলমপুর ইউনিয়নের শালপাড়া ঘাটের উত্তরে নদী থেকে ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের সমর্থক জাহিদ, শামীম ও নুরু মিয়াসহ প্রায় ২০ জন প্রতিদিন বালু তুলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিট্রলি ৬০০ টাকা করে বিক্রি করছে।

বাধা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের হুমকির শিকার হচ্ছে নিরীহ গ্রামবাসী। ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, নদী থেকে উত্তোলকৃত বালু পরিবহনের কারণে জয়ন্তীপুর ঘাট থেকে গোপীনাথপুর মাদরাসা মোড় পর্যন্ত প্রায় এককিমি পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন বলেন, নদীটির কোথা থেকে বালু তোলা হচ্ছে, তা জানি না। তবে টুকুরিয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীপারের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে বালু উত্তোলন বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধে সম্প্রতি মাইকিং করা হয়েছে। এর পরও বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড করতোয়া নদীর দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে নদী খনন করছে। খননকৃত বালুর ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে এক ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২০ ব্যক্তির সংঘর্ষ ঘটে। এতে প্রায় আটজন আহত হয়। এ ঘটনায় গত ৮ এপ্রিল টুকুরিয়া ইউনিয়নের বিছনা ও দক্ষিণ দুর্পাপুর গ্রামে করতোয়া নদীর ওই দেড় কিলোমিটার এলাকায় বালু উত্তোলন এবং নদী খনন না করার জন্য অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team