1. bslbarta@gmail.com : BSL BARTA : Golam Rabbi
করোনায় ধুনটে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশশিল্প কারিগররা - বিএসএল বার্তা




করোনায় ধুনটে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশশিল্প কারিগররা

আব্দুর রাজ্জাক শেখ বগুড়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে ঘরে ঘরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের শঙ্কা। এলাকাজুড়ে চলছে লকডাউন ও সামাজিক দুরত্ব মানার বিধান। সব বাধা বিপত্তিতে ঈদের বাজার ধরতে চাঙ্গা বাঁশশিল্প কারিগররা। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ তৈরি করছেন বাঁশের চটি, তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে খাঁচিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ঘরের বারান্দায় কিংবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে আপন মনে খাঁচি তৈরিতে ঝুঁকে পড়েছেন বাঁশশিল্প কারিগররা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদকে সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাইয়ের খাঁচি তৈরির কাজে এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার ২০ গ্রামের বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত কমপক্ষে ৫ হাজার বাঁশশিল্প কারিগররা।সরেজমিন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুনট উপজেলার প্রতিটি দোকানেসহ বিভিন্ন এলাকায় লাচ্ছা সেমাই রাখার জন্য ব্যবহার হয় বাঁশের তৈরী খাঁচি। তাই কারিগররা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাঁশের তৈরি এ সব খাঁচি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খাঁচির কারিগরদের ঈদের বাজার ধরার কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গৃহস্থালির কাজ শেষ করে এ কাজে সহায়তা করছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জীবনের শরু থেকেই বাঁশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তাদের। বহু যুগ যুগ ধরে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানাতে পারদর্শী তারা। এ শিল্পের তারা নিপুন কারিগর। এটিই তাদের জীবনের পেশা ও নেশা। অন্য কাজ করা বা শেখার মানসিকতাও নেই তাদের। বিভিন্ন আকার ও শৈলীতে কাটা সোনালী বাঁশের এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন কারিগররা।

উপজেলার পাকুড়িহাটা, নলডাঙ্গা, কান্দুনিয়া, দাঁড়াকাটা, চালাপাড়া, বেলকুচি ও বাঁশহাটাসহ ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র জীবিকার পথ বিভিন্ন বাঁশের সামগ্রী তৈরি করা। তবে, সবচেয়ে বেশী চাহিদা বাঁশের তৈরী চাটাই। ঘরে ঘরে আছে চাটাই তৈরির নানা উপকরণ। প্রতিটি পরিবারই এই শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ চাষ করে আসছেন। বাঁশ দিয়ে শুধু চাটাই নয় এখানে আরো তৈরী হয় খলপা, তালাই, ডোল, খালই, হোচা, বিছন বা হাত পাখা,খাঁচি বা টোপাসহ নানা সামগ্রী। করোনায় বর্তমানে ঈদকে সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাই কারখানার মালিকদের চাহিদা মেটাতে খাঁচি তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশশিল্প কারিগরদের যেন সামান্য কথা বলারও সময় নেই। ধাপে ধাপে খাঁচি তৈরীর কাজ শেষে সেগুলো থরে থরে সাজিয়ে রাখাসহ নানা কাজে ঝুঁকে পড়েছেন। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই হাত লাগিয়েছেন এসব কাজে। বাঁশশিল্প কারিগররা বলেন, সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরী করলেও ঈদের সামনে খাঁচি তৈরীর কাজ বেশী করা হয়। লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিকেরা ঈদের আগে খাঁচির চাহিদা মেটাতে তাদের ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাঁচি তৈরী করে দেওয়া হয়। এই খাঁচি বিক্রির জন্য তাদের হাট বাজারে যেতে হয় না। কারখানার মালিকেরা গ্রামে এসে এসে খাঁচি কিনে নিয়ে যান। ভাল মানের একটি বাঁশ দিয়ে তিন চারটি খাঁচি তৈরী করা যায়। এক এক জন দক্ষ কারিগর দৈনিক চার পাঁচটি করে খাঁচি তৈরী করেন। প্রতিটি খাঁচির পাইকারী মূল্য ৪৫ থেকে ৫০টাকা। এভাবেই চলছে ধুনটের বাঁশশিল্প কারিগরদের জীবন জীবিকা।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..






















© All rights reserved © 2019 bslbarta.com
Customized By BSLBarta Team