বরিশালে শেষ সময়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সহ আ’লীগ থেকে বহিষ্কার ১৯

429

আগামী সোমবার অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদে।

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলামও (ইতালী শহিদ) ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে। বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর ওই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমার্থন করেছেন। একই অভিযোগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদেরকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু এই তিনজনই নয়, নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ১৯ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৯ জুন) বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস স্বাক্ষরিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা ও উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার-প্রাচারণা চলছে দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। যেসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন কিংরা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদেরকে এতদিনে বহিষ্কার করা হয়নি কেন। জেলা থেকে তাঁদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়াও হয়নি। ফলে যে যার মতো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। হঠাৎ করে ভোটগ্রহণের দুই দিন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণবহিষ্কার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করবে। এতে ভোটে সহিংসতাও বাড়বে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট কায়ুম খান কায়সার কালের কণ্ঠকে বলেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ইউনিয়ন সফরের সময়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রাহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে যাঁরা নির্বাচন করছেন তাঁদেরকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা নিদের্শনা উপেক্ষা করেছেন তাঁদেরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বিদ্রোহী প্রার্থী তাজেম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যকে জেলা কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করার এখতিয়ার দলীয় গঠনতন্ত্রে নেই। তাঁরা শুধু কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠাতে পারেন। তাও করতে হলে আগে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে হয়। তাঁরা তা করেননি। আর আমাদের সময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে- এমন কোনো নোটিশ হাতে পাইনি।’

জেলা আওয়ামী লীগের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২১ জুন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বরিশালের হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ফারুক সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সিকদার, মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য মজিবুর রহমান শরীফ, ইউসুফ আলী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার, সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম (ইতালী শহিদ), বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন পান্না, দাড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাছের আহম্মেদ বাচ্চু, গারুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন তালুকদার মিন্টু, কলসকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুস সালাম তালুকদার এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থনকারী বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান, ইসমাইল বেপারী, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আ. রব বেপারী।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, যাঁদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁরা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ও নিদের্শনা অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনে বিপক্ষে অবস্থান যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদেরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হবে।