জীবন বদলানোর উপায়

29

লক্ষ্যহীন জীবন মাঝি বিহীন নৌকার মত। জীবনের সন্তুষ্টির জন্য আগে অবশ্যই নিজের আইডিয়া ও কাজের পরিকল্পনাগুলো দেখতে হবে। নিজের আইডিয়া ও কাজের পরিকল্পনাকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে জীবনটাকে পরিবর্তন করা যায়। পরিকল্পনায় সময় একটি বড় ফ্যাক্টর কাজেই পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে সময় নির্ধারণ করা জরুরি। এরপর উচিৎ হবে বিকল্প পথ সম্পর্কে জানা। যদি কোন ধাপে আপনি অতিক্রম করতে না পারেন সেক্ষেত্রে সকল সম্ভাব্য উপায়ে চেষ্টা করে যেতে হবে । এ জন্য বিকল্প পথ গুলো জানা থাকতে হবে। সফলরা বলেছেন বিজয়ীরা ভিন্ন কোন কাজ করে না, তারা একই কাজ ভিন্ন ভাবে করে। টমাস আলভা এডিসন ছিলেন একজন মহামানব। তিনি এতো যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যে তাকে যন্ত্র মানব বলা হয়। তিনি বাল্ব আবিস্কারের সময় ১০০০ বার ব্যর্থ হওয়ার পর সফল হন। কাজেই চেষ্টার মাঝেই লুকিয়ে আছে সফলতা।

প্রথমে ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে
নিজের করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে তালিকা করার আগে ভাবতে হবে কি করা উচিত আর কি করা উচিত না।সব লিখে তারপর দেখতে হবে কোনটিকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। চিন্তাগুলোকে একটি কাঠামোতে সাজিয়ে ফেলতে হবে।কোন সময়ে কোনটি করলে ভালো ফল আসবে এভাবে ভেবে চিন্তে এগোতে হবে।এতে করে যাই করা হোক না কেন তাতে একটি মানসিক সন্তুষ্টি থাকবে।চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন মানুষ একই সময়ে চারটি বিষয়কে মাথায় রাখতে পারে।

নিজেকে আরও সফল করে তুলতে হবে
নিজেকে সফল করে তুলতে একটু বেশিই পরিশ্রম করতে হবে। মনোবিজ্ঞানী জর্ডান পিটারসন দেখিয়েছেন যে শিক্ষার্থীরা একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে তাদের পারফরম্যান্স ভালো হয়। তাই একটি কলম আর এক টুকরো কাগজ নিয়ে নিজের লক্ষ্যগুলো লিখতে শুরু করে দিন। কোন কিছু নিয়ে উল্টাপাল্টা ভাবনা থেকে শুরু করে অহেতুক দুশ্চিন্তা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকারের পাশাপাশি স্মৃতি রোমন্থন না করলে সহজেই সাফল্য ধরা দেবে। দুশ্চিন্তা নয়, সমাধানের চিন্তা করতে হবে।

সফল হওয়ার উপায়ঃ
 আমরা ঘুম থেকে দেরি করে উঠি আর তারপর সারাদিন সময় না পাওয়ার বাহানা খুঁজি। ঘুম থেকে ওঠার সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে আনুন দেখবেন দিনটা অনেক বড় হয়ে যাবে।
 জীবনে কী করতে চান সেই বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সারাদিনের কাজকে মনে মনে ছকে ফেলুন। কোন কাজটা আপনাকে লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করবে সেটা মনে মনে ভেবে নিন। নিজেকে সফল ভাবতে শিখুন।
 সারাদিন মুড ভাল রাখতে, এনার্জি বাড়াতে রোজ উপভোগ করে ব্রেকফাস্ট করুন। সফল মানুষেরা কিন্তু কখনই ব্রেকফাস্ট বাদ দেন না।
 গুরুত্বপূর্ণ কাজ আবশ্যিকতার জন্য ফেলে রাখবেন না। রোজ কী কী করবেন তার একট চেক-লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটা অত্যন্ত ভাল অভ্যাস।
 অলসতা না করে সবসময় আপনার লক্ষ্যকে সামনে রাখুন। নিজেকে মটিভেট করতে হাসির মুভি দেখুন, মন ভাল করার মত কাজ করুন, রিলাক্স করুন। স্ট্রেসকে ধারেকাছেও আসতে দেবেন না।
 হালকা শরীরচর্চা আপনাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। রোজ ঘুম থেকে উঠে হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। এতে পেশীর শিথিলতা বাড়ে, রক্তসঞ্চালন ভাল হয়ে কার্যক্ষমতা বাড়ে।
 সুস্থতার উপর সফলতা নির্ভর করে। তাই বাড়ির স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
 ঘর অগোছালো থাকলে কাজের এনার্জি কমে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে ঘরকে গুছিয়ে রাখুন।
 সুস্থ, সবল থাকতে রাতে ঘুমের প্রয়োজন তাই অকারণে রাত না জেগে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো উচিত। প্ল্যান করে কাজ করলে রাত জেগে ফেলে রাখা কাজও করতে হবে না।
 চুপচাপ থাকলে মনঃসংযোগ বাড়ে তাই কথা কম কাজ বেশি। নিজের সঙ্গে কথা বলুন এতে করে আপনার কাজের মান বাড়বে।
 সফল মানুষের অন্যতম গুন হচ্ছে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাসী মানুষ খুব সহজেই ঝুঁকি নিতে পারে, নিতে পারে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তও কারণ তারা নিজের প্রতি অনেক আস্থা রাখে। আর এই গুনটিই তাদের সফল হতে সাহায্য করে।
 আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যারা লজিক দিয়ে চিন্তা করে তারাই জীবনে সফলতার স্বাদ পায়।
 সুযোগের অপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে সঠিক অবস্থানে ঝুঁকি নিতে জানতে হবে।
 কাজের স্পৃহা বাড়াতে কাজকে জীবনের অংশ করে নিতে হবে।
 বিফলতার তিক্ততাকে উপভোগ করে সেই বিফলতাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিশেষ গুনটি অর্জন করতে হবে।
 দ্বিধা করে সুযোগ হারিয়ে না ফেলে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
 হাল ছেড়ে না দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুনটিই হলো সফলতার মূল মন্ত্র।

অর্থ সঞ্চয় করুন
অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়ে ভাবতে হবে। অর্থাৎ কোথায় গেলে সাশ্রয় হবে সেটিও জানা থাকা উচিত। যেমন শপিংয়ে গেলে কি কি কিনবেন সেগুলো লিখে ফেলুন। তারপর দেখতে হবে কোথায় সেটা সাশ্রয়ী হবে।এটি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় থেকে রক্ষা করবে।

আত্ম-সন্দেহ থেকে মুক্ত থাকতে হবে ও আত্মবিশ্বাসকে আরও জাগ্রত করতে হবে
হঠাৎ যদি মনে হয় যে জীবন আপনি পার করছেন তা যথেষ্ট ভালো নয়, তাহলে একটি সঠিক তালিকাই আপনাকে সে পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারে। আপনি আপনার ছোট বড় সব অর্জনগুলো তালিকায় তুলে ফেলুন। দেখবেন সত্যিই কি দারুণ সময় গেছে আপনার।
মানুষ এ আত্মবিশ্বাস নিয়েই সমস্যায় ভোগে। তাই এ তালিকাটি করুন সেটি যে ধরণের সাফল্যই হোকনা কেন। এরপর নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে।

নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো ভুল করছেন না
এটি আপনাকে যে কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে। তাই এ ধরণের একটি চেক লিস্ট জরুরি। বিয়ের পরিকল্পনা, বা ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনায় কি কি দরকার লিখে ফেলুন। দেখবেন দারুণ পরিকল্পনা হয়ে যাচ্ছে।

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় স্থির থাকতে নিজেকে সহায়তা করুন
আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় মনে করিয়ে দেয় যে কোন কাজগুলো শুরু করেও আমরা শেষ করিনি।
আর এ কারণে যখন আপনি মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করছেন তখন দেখবেন আরেকটি বিষয় মনে এসে আপনার কাজের ব্যাঘাত ঘটিয়ে দিচ্ছে।এজন্য মনোবিজ্ঞানীরা বলেন কখন কোনটা করবেন তা লিখে ফেলুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন।

যে জিনিসগুলো আপনাকে দমিয়ে রেখেছে সেগুলোর মুখোমুখি হোন
যেসব বিষয় আপনাকে এগুতে দিচ্ছেনা বা দমিয়ে রাখছে সেগুলোর মুখোমুখি হোন। হয়তো মনে হবে বিষয়টি সুখকর না হলেও তার মোকাবেলা করতে হবে। দেখবেন শেষ পর্যন্ত সন্তুষ্টি আসবেই ইনশাল্লাহ্।

রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো
রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমালে মাথা ঠাণ্ডা থাকবে। সব কাজ ঠাণ্ডা মাথায় করা সম্ভব হবে। ঘুম শরীরের বেড়ে যাওয়া চর্বি কমায় এবং মস্তিষ্কের বুদ্ধি বাড়ায়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল বলছে, প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুমালে মনযোগ কমে যায়, তথ্য গ্রহন এবং প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হয়। নিউরনগুলো ক্লান্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক কিছুই মনে রাখা সম্ভব হয় না। গবেষনায় দেখা গেছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ৫০ শতাংশ মানুষের অনিদ্রা আছে। আর আয় বাড়ার সাথে সাথেই অনিদ্রা কমতে থাকে। অনিদ্রা থেকে জন্ম নিতে পারে বিষণ্ণতা আর বিষণ্ণতার কারণে কার্যক্ষমতা হারিয়ে যায়। কম ঘুমের কারণে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে আর এতে করে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

অভ্যাস করুন গভীর ঘুমেরঃ
১। ঘুমানোর আগে খেয়ে নিন এক গ্লাস গরম দুধ
২। ঘুমানোর আগে ঘুমের সহায়ক গ্রীন টি পান করতে পারেন
৩। রুমকে একেবারে অন্ধকার করে নিন কারন অল্প একটু আলোও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
৪। ঘুমের উপর নেতিবাচক প্রভাবকারী অ্যালকোহল, কাফেইন এবং নিকোটিন সন্ধ্যার পর থেকে গ্রহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ঘুমের ক্ষতিকারী স্মার্টফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। আর বিছানায় ইমেইল বা ফেসবুক চেক করা বন্ধ করতে হবে।