আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় হট্টগোল ও চেয়ার ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মনিরুজ্জামান নসা ও তার সমর্থকরা সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ার ছুড়ে লাঞ্ছিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার সকালে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছিলেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধারাও।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, জেলা পরিষদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলাম মাস্টার ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।

শুরুতেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের বক্তব্য প্রদান করেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বক্তব্য শেষে আমন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একজনকে বক্তব্য রাখার জন্য বলা হয়। সেখানে উপস্থিত বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাংগঠনিক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বক্তব্য শুরু করতেই মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুল ইসলাম নসা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নসার সমর্থকরা দুলালকে উদ্দেশ করে চেয়ার ছুড়তে শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করলে তাদের উদ্দেশ্যেও চেয়ার ছুড়ে মারে নসার সমর্থকরা। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সভা পণ্ড হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর সমর্থকদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান মনিরুজ্জামান নসা। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ফের সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

দারুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমরা লাঞ্ছিত হয়েছি। দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামের ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে আনা বীরদের এভাবে যে লাঞ্ছিত করতে পারে নীতিগতভাবে তার আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণেরও অধিকার নাই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করছি।

নসার সমর্থকদের ছোড়া চেয়ারের আঘাতে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া বলেন, সভার শুরু থেকেই মনিরুজ্জামান নসা ও তার সমর্থকদের আচরণ অসৌজন্যমূলক ছিল। আমি কথা বলতে শুরু করলেই নসার নির্দেশে সমর্থকরা আমার ওপর চড়াও হয়ে চেয়ার ছুড়ে আমায় আহত করে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু থাকতে পারে না। আমরা আওয়ামী লীগের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান মারুফ বলেন, এর আগের ইউপি নির্বাচনের মনিরুজ্জামান নসা এই ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। আমি মনোনয়ন পেয়েছিলাম। তাই নসা আমার নির্বাচন না করে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ষড়যন্ত্র করে আমাকে মাত্র ১৪৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আমি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, জেলা আওয়ামী লীগ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারপরও নসার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যদি নসার বিরুদ্ধে তখন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ মুক্তিযুদ্ধারা লাঞ্ছিত হতো না।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান নসা বলেন, সভায় ওই ইউনিয়ন থেকে এর আগের নির্বাচন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হেরে যাওয়ার মারুফ মৃধা আমার বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন এবং আমার বক্তব্যের সময়ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মিয়া একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভাই। তিনি এলাকায় বিতর্কিত একজন ব্যক্তি। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার দাবি উঠলে প্রার্থীর ভাই হিসেবে দুলাল মিয়ার বক্তব্য রাখায় আমি আপত্তি জানাই। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে দুলালই আমার দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। পরে আমার সমর্থকরাও প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে আমি সমর্থকদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করি।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে সব ঠিক করে আমরা সভার কার্যক্রম শেষ করেছি।

তবে এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।