মার্চ থেকে ঢাকা মহানগর আ’লীগের সম্মেলন শুরু

171

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ইউনিট পর্যায় থেকে শুরু করে থানা-ওয়ার্ড পর্যন্ত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।

দুই অংশের শীর্ষ চার নেতাকে ডেকে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই অংশ হিসাবে আগামী বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ১ মার্চ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। এ সভা থেকে সম্মেলন কমিটি করা হবে। থানা-ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করবেন।

জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, উত্তর ও দক্ষিণের বর্ধিত সভার পর সম্মেলনের কাজ শুরু করা হবে। প্রথমে ইউনিটগুলোর সম্মেলন করা হবে। এরপর থানা-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হবে। সম্মেলন কতদিনের মধ্যে শেষ করতে হবে জানতে চাইলে মির্জা আজম বলেন, এটা চূড়ান্ত হয়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব এগুলো শেষ করা হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সময় বেঁধে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৈঠকে বসেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বৈঠকে ওবায়দুল কাদের দ্রুত সম্মেলন আয়োজনসহ নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় মির্জা আজম উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, প্রথমে ইউনিট সম্মেলন, এরপর ওয়ার্ড এবং শেষে থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্মেলন ছাড়া কোনো পর্যায়ে কমিটি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বর্ধিত সভায় দলীয় কাউন্সিরদের (মহানগর বা থানা-ওয়ার্ডের শীর্ষ নেতা না হলেও) রাখার বিষয়ে এক শীর্ষ নেতা মতামত দেন। তবে এর বিরোধিতা করে অন্যরা বলেন, এটা দলের বর্ধিত সভা। যারা দলীয় পদে রয়েছেন এবং যারা ক্রাইটেরিয়াতে পড়েন, তারাই শুধু সভায় অংশ নিতে পারবেন। দরকার পড়লে দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করা যেতে পারে। দলীয় কাউন্সিলরদের থানা ও ওয়ার্ডের শীর্ষ পদে রাখা বা না-রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এক শীর্ষ নেতা জানান, কাউন্সিলররা আমাদের বাইরে না। দলের বাইরে তাদের রাখব সেটা নয়। তবে তাদের শীর্ষ পদে (সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) না রাখার জন্য নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি) নির্দেশনা আছে। আমরা সেভাবেই কমিটি করার চেষ্টা করব। তবে যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী হয়েছিলেন, তারা থানা-ওয়ার্ডের কমিটিতে থাকতে পারবেন না।

জানা গেছে, সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনার পরপরই লবিং-তদবির শুরু করেছেন থানা-ওয়ার্ডের পদপ্রত্যাশীরা। এর মধ্যে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিও রয়েছেন। ঢাকা মহানগরের পল্টন বা মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসার জন্য লবিং-তদবির শুরু করেছেন সোহেল ও তার সহযোগী আলী রেজা খান রানা। পদে আসতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে তারা ধরনাও দিচ্ছেন। অভিযোগ, সোহেল ও রানা রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় ১১ নম্বর ওয়ার্ড (পুরাতন ৩৪) ছাত্রলীগের সভাপতি কাওছার হত্যার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। ২০০১ সালে শান্তিনগরের সাদা হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি রানা। তারা ফ্রিডম পার্টির শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক জাফর আহমেদ মানিকের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নিষেধ থাকলেও শীর্ষ পদের দৌড়ে আছেন দলীয় কাউন্সিলররাও। এমনকি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এমন নেতারাও নগরের কমিটিতে থাকতে নানা ধরনের চেষ্টা করছেন। ৫৯নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য খোরশেদ আলম বাবু মাস্টার ও আওলাদ হোসেন। এছাড়া দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৫২নং ওয়ার্ডে থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমিন এবং ৫৩নং ওয়ার্ডে থানার কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মামুন নির্বাচন করেন। গত সিটি নির্বাচনে ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০টির অধিক ওয়ার্ডে শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভও করেন। তখন ভবিষ্যতে আর দলের পদে তাদের রাখা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, ১ মার্চ বর্ধিত সভায় সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করা হবে। এবার একেবারে ইউনিট পর্যায় থেকে শুরু করে থানা-ওয়ার্ড পর্র্যন্ত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কমিটি করা হবে।

একই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, অনেক বিতর্কিত ও দাগি ব্যক্তি কমিটিতে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। তাদের কোনোভাবেই কমিটিতে রাখা হবে না। ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন দলের জন্য নিবেদিত নেতাদের দিয়ে কমিটি করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, থানা ও ওয়ার্ডের শীর্ষ বা গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের রাখা হবে না।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অধীনে ২৪টি থানা, ৭৫টি ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ডগুলোর অধীনে ৫-১০টি করে ইউনিট রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীনে ২০টি থানা, ৬৫টি ওয়ার্ড, একটি ইউনিয়ন রয়েছে। উত্তরের ওয়ার্ডগুলোর অধীনেও বেশ কয়েকটি করে ইউনিট কমিটি রয়েছে। নগর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এসব কমিটির মেয়াদ নেই। অনেক জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কমিটিও নেই। আবার দু-চার জায়গায় একাধিক কমিটিও রয়েছে।